#ঈদে_বাড়ী_মুখো_বাইকার_ভাইদের_জন্য_টিপস

পোষ্ট টা আগেও করা হয়েছে সকলের সুবিধার্থে আবারও করছি.......
# যে সকল বাইকার ভাইরা হাইওয়েতে বাইক চালিয়ে বাড়ী যাবেন আপনজনের সাথে ঈদ উৎযাপন করতে, সেই সকল বাইকার ভাইদের জন্য আমার সামান্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। আশা করি এই টিপস্ আপনার অনেকটা কাজে আসবে।
এবার আসুন মূল কথায়ঃ
১। অবশ্যই জিন্স পড়বেন।
ফরমাল পেন্ট পড়বেন না।
২। ফুল হাতা গে‌নজি অথবা শার্ট পড়‌বেন।
এটা যেন একটু ফিটিং হয়।
৩। অবশ্যই কেডস্ পড়বেন।
৪। হাতে গ্লাভস্ পড়বেন।
৫। অবশ্যই ফুল ফেইচ হেলমেট পড়বেন। চলন্ত অবস্থায়
হেলমেটের গ্লাস উঠিয়ে রাখবেন না।
৬। এলবো এবং নি-গার্ড থাকলে পড়ে নিবেন।
৭। সামনের পকেটে মোবাইল রাখবেন না।
৮। পিছনের পকেটে মানিব্যাগ রাখবেন না।
৯। মোবাইল এবং মানিব্যাগ রাখার জন্য
ওয়েষ্ট ব্যাগ ব্যবহার করবেন।
১০। অবশ্যই রিফ্লেক্টিং জ্যাকেট পড়বেন।
১১। যেহেতু বৃষ্টির দিন, তাই
রেইনকোট অবশ্যই সাথে রাখবেন।
১। যেদিন আপনি রওনা দিবেন তার এক/দুই দিন আগেই একজন ভালো মেকানিক দিয়ে আপনার বাইকটা চেক করিয়ে নিবেন। যদি সামান্যতম ত্রুটিও থাকে, সেটা অবহেলা না করে সমাধান করে নিবেন।
২। চাকার হাওয়ার প্রেসারঃ-
সামনের চাকায় সর্বোচ্চ ২৫-২৮ , এবং
পিছনের চাকায় সর্বোচ্চ ৩৫ রাখবেন। এবং তা নিজের চোখে মেপে দেখে নিবেন ।
৩। ড্রাইভিং লাইসেন্সের এর মূল কপি।
টেক্স টোকেন এর মূল কপি।
রেজিষ্টেশন কাগজ এর মূল কপি।
ইন্সুরেন্স (মেয়াদ সহ) এর মূল কপি।
রেজিষ্টেশন এর টাকা জমার মূল রসিদ, অবশ্যই সাথে রাখবেন।
৪। বাইক স্টার্ট করার আগে দুই চাকার ব্রেক, ক্লাস, হেড লাইট, হর্ণ, ইন্ডিকেটর লাইট চেক করে নিবেন। এবং চাকায় লিক আছে কিনা চেক করে নিবেন।
৫। আপনার কাপড়ের ব্যাগটা বাইকের বেক সীটে ভালো করে টাইট করে বেঁধে নিবেন। সামান্য প্রকারও যেন নড়াচড়া না করে।
৬। ব্যাগ কোন অবস্থাতেই কাধে বা
পিঠে নিবেন না।
৭। বিশেষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রা‌তে বাইক
জার্নি করবেন না।
৮। হাইওয়েতে যখন উঠবেন তখন আপনার বাইকের বেক লাইট এবং হেড লাইট / ফগ লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন।
১। বিসমিল্লাহ বলে বাইক স্টার্ট করবেন।
২। আপনি যত এক্সর্পাট বাইকারই হোন না কেন, হাইওয়েতে ৯০+ স্পিডের বেশি চালাতে যাবেন না।
৩। ৪৫ থেকে ৫০ কিঃমিঃ পর পর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বিরতি দিবেন। এতে আপনার বাইকের রেস্ট হবে, সাথে আপনারও। এই বিরতিতে আপনি চা/পানি খেয়ে নিতে পারেন।
৪। নিরিবিলি জায়গায় বিরতি দিবেন না। এতে আপনি ছিনতাইকারির কবলে পড়তে পারেন।
৫। বাইক স্টার্ট করা থেকে শুরু করে, প্রতি বিরতির পর বাইক স্টার্ট করার আগে একটা সেন্ট্রার ফ্রেস/ফ্রুট মুখে দিয়ে নিবেন।
এই সেন্ট্রার ফ্রেস/ফ্রুট আপনি আপনার বাসার কাছের দোকান থেকে নিয়ে নিবেন।
এই সেন্ট্রার ফ্রেস/ফ্রুট আপনাকে চলন্ত বাইকে প্রানবন্ত রাখবে।
৬। পানির বোতল সাথে রাখবেন।
যেটা আপনি আপনার বাসা থেকেই বা বাসার কাছের দোকান থেকে নিয়ে নিবেন।
৭। চলন্ত বাইকে মোবাইলে কথা বলবেন না।
৮। পুলিশের পোষাক ছাড়া কেউ সিগনাল দিলে দাড়াবেন না।
৯। পুলিশের পোষাকে পুলিশ সিগনাল দিলে অবশ্যই দাড়াবেন। এবং বিনয় ও সন্মানের সহিত কথা বলবেন।
১০। আপনি যদি সিঙ্গেল বাইকার হোন তাহলে আপনার বাইকের গতির সাথে মিলিয়ে যে কোন একটা চার চাকার গাড়ির পিছু পিছু যাবেন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তাকে ওভারটেক করবেন না।
এবং ঐ গাড়ির ডান চাকার দাগে দাগে চালাবেন। দুই চাকার মাঝ বরাবর চালাতে যাবেন না। এতে আপনার বিপদ হতে পারে। এবং উক্ত গাড়ি থেকে কমপক্ষে ১০০ হাত দূরুত্ব বজায় রাখবেন।
১২। তিন চাকার পরিবহন (অটোরিক্সা, রিক্সা, সিএনজি, টেম্পু) থেকে ১০০০ হাত দূরে থাকবেন। কারন এরাই হবে আপনার দূর্ঘটনার প্রধান কারন।
১২। হাইওয়েতে কেউ লিফ্ট চাইলে দাড়াবেন না।
১৩। হাইওয়েতে কেউ বিপদগ্রস্থ হয়ে আপনার কাছে সাহায্য চাইলে ভুলেও দাড়াবেন না। কারন ছিনতাইকারি বিপদগ্রস্থ মানুষ সেজে আপনাকে দাড় করিয়ে আপনার বাইক সহ মূল্যবান জিনিস পত্র নিয়ে যাবে। যদি সত্যি সত্যি বিপদগ্রস্থ হয়, তাহলে হাইওয়ে পুলিশকে জানাতে পারেন।
১৪। চলন্ত বাইকে লুকিং গ্লাস ফলো করবেন।
১৫। যে কোন গাড়ি আপনাকে ওভারটেক করার সময় অথবা আপনি ওভারটেক করতে গেলে কমপক্ষে ৫ হাত দূরত্ব বজায় রাখ‌বেন।
১৬। বাইকের তেল ফুল ট্যাংকি ভরে নিবেন।
১৭। ভাংতি টাকা সাথে রাখবেন।
ব্রীজ/ফেরি তে টোল দিতে কাজে আসবে।
১৮। গান শুনতে শুনতে বাইক চালাবেন না।
১৯। মোবাইলে লাস্ট ডায়ালে এমন একজনের নাম্বার রাখবেন, যেন কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে তাকে কল দিতে পারেন।
২০। রাস্তা ঘাটে না পারতে কোন খাবার খাবেন না। যদি খেতেই হয় তাহলে ইনটেক্ট খাবারের প্যাকেট কিনবেন। অথবা বাসা থেকে শুকনা খাবার সাথে নিতে পারেন।
আমার এই টিপস্ এ যদি আপনার সামান্যতম উপকার হয়, তাহলে আমার জন্য দোয়া করবেন।
সাবধানে বাইক চালাবেন, সতর্ক থাকবেন।
সবাইকে #ঈদ_মোবারক

No comments

Theme images by ArdenSt. Powered by Blogger.